শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৫

স্যরি সাকিব, কুত্তার লেজ কখনও সোজা হয় না!

দেবু দা এদের বলেছিলেন ‘ঘৃণা প্রজন্ম’। প্রচন্ড ঘৃণা ও বিদ্বেষ নিয়ে এরা বড় হয়ে উঠছেন; সব কিছুতেই এরা বিদ্বেষ খুঁজেন – জাতি বিদ্বেষ, ধর্ম বিদ্বেষ; এদের কোন দেশ নাই; আছে বিদ্বেষ।
আমি, এদের আরও একটু গভীরে গিয়ে ডিফাইন করি। সোজা ভাষায় এরা হল কুকুর। কুকুরের লেজ যেমন সোজা হয়না, এরাও তেমনি জীবনে কখনও মানুষ হবে না।এদের কাছে শুদ্ধ কোন কিছুই নেই। ক্রিকেটাররা খারাপ খেললে গালি দেন সরাসরি; ভাল খেললে স্ত্রী কিংবা বাপ-মা তুলে গালি দেন।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল এরা বর্ণচোরা। কোন নির্দিষ্ট ছাঁচে এদের ফেলা যায় না, কোন নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেও এদের আনা যায় না। এদের কেউ জিরো ফেসবুক ইউজার, কেই মুরাদ টাকলা; কেউ আবার স্যাডিস্ট।
ফেসবুকে ক্রিকেট বিষয়ক যেসব গ্রুপ আছে সেসবের সাথে সরাসরি এসব ‘কুকুর’-এর সরাসরি কোন সংযোগ নাই। আমি যতটুকু জানি ও বুঝি ক্রিকেটখোর, ক্রিকেটরঙ্গ, ক্রিকেট দুনিয়া, ক্রিকেট ফ্রিক, ক্রিকেট ফিয়েস্তা কিংবা বিসিএসএ টাইগার্স – ইত্যাদি গ্রুপ যারা চালায়, বা যারা এদের অ্যাকটিভ সদস্য তারা সবাই সেনসিবল; ক্রিকেটের মাঠের খেলাটা বোঝার চেষ্টা করে এবং সর্বপরি, এরা ক্রিকেটের ভাল চায়।
ফলে, নিশ্চিত করে বলে দেয়া যায় এদের থেকে বা প্রকৃত ক্রিকেটপ্রেমীদের থেকে এদের জন্ম হয়নি। কিন্তু তারপরও কি করে যেন এরা নানা রকম গ্রুপে ঢুকে পড়েছে; ক্রিকেটারদের ভেরিফাইড পেজেও লাইক দিয়ে রাখে। খুব অ্যাকটিভ যে, তাও বলা মুশকিল। আর সুযোগ পেলেই এমন একটা মন্তব্য করে বসে যে, সেটার দায় গোটা ক্রিকেট সমর্থক গোষ্ঠীদেরই নিতে হয়।
ঘটনার সাথে সম্পর্ক নেই এমন অযাচিত কমেন্ট পোস্ট করে; কখনও সেটা নিজের বিকৃত মানসিকতাকে ফলাও করে প্রচার করার জন্য; কখনও করে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। কখনও নিজের আইডি থেকে করে; কখনও করে ফেক আইডি থেকে।
এরা যে ক্রিকেট বুঝে না সেটা চোখ বন্ধ করেই বলে দেয়া যায়। বুঝলে অন্তত মাশরাফি বিন মুর্তজার মত মানুষকে এরা গালমন্দ করতেন না। নাসিরের বোন, তামিমের স্ত্রীও এদের হাত থেকে রেহাই পাননি।
সর্বশেষ এরা আক্রমণ করলো সাকিব আল হাসানের ভেরিফাইড পেজে। সেখানে তাদের রোষের শিকার হলেন সাকিব ও তার স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির। যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার আগে দুবাইয়ে বসে ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করেছিলেন সাকিব। সেখানে কয়েকজন যা বলেছেন সেটা লিখতেও আমার রুচিতে বাঁধছে!
এই ব্যাপারে সাকিব এখনও কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি; কিন্তু এর জের ধরে তিনিও যদি মাশরাফির মত ফেসবুক বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ করে দেন তাহলে সেটাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এখন ব্যাপার হল ব্যক্তিগত পর্যায়ে এমন আক্রমণের উদ্দেশ্য কি? ব্যাখ্যাটা সহজ। আমরা তারকা দেখতে অভ্যস্ত নই। ক্রিকেটকে যদি আপনি এক ধরণের পারফরমিং আর্ট ধরেন তাহলে এই প্রজন্মের আগে আমাদের দেশে বড় কোন তারকার আবির্ভাব ঘটেনি।
আমরা এটা মানতে পারি যে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিত্যনতুন গাড়ি কিনতে পারেন; মাসে মাসে প্রেমিকা পরিবর্তন করতে পারেন। মানতে পারি মেসি বিয়ে না করেও সন্তানের জনক হবেন। কিন্তু সাকিবের বিদেশ ভ্রমন, স্ত্রী ভাগ্য, তার নতুন গাড়ি কেনা মানতে পারি না। তার তারকা খ্যাতিকে আমাদের কাছে অসহ্যকর মনে হয়।
এই ‘আমরা’ কিন্তু আমরা সবাই নই। এই আমরা হল ওই নির্দিষ্ট কিছু মানুষ। কিন্তু কি করে যেন দায়টা আমাদের সবার উপর চলে আসে।
এখন প্রশ্ন হল, এই দায় থেকে মুক্তির উপায় কি? সরি, বলে আর কতদিন পার পাওয়া যাবে? উত্তর একটাই; ওই পুরনো কথাই – কুত্তার লেজ কখনও সোজা হয় না!

ওয়ান নিউজ বিডি,

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন