শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০১৫

বাংলাদেশকে ভোলেননি এলিয়ট

বাংলাদেশের মটিতে পারফরম্যান্স দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিচার করতে চান না গ্র্যান্ট এলিয়ট। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের আগে নিউ জিল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান বলছেন, বাংলাদেশে খেলা কতটা কঠিন, সেটা ভালোই জানা আছে তার।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউ জিল্যান্ড বরাবরই ওয়ানডে ক্রিকেটের শীর্ষ দলগুলির অন্যতম। এই মুহূর্তেও ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের তিনে নিউ জিল্যান্ড, চারে দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। যে ম্যাচে ডেল স্টেইনের বলে এলিয়টের শেষ ওভারের ছক্কা জিতিয়েছিল নিউ জিল্যান্ডকে।
তবে বাংলাদেশে এসে নাকাল হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে দু দলেরই। ২০১০ ও ২০১৩ সালে দু দফায় বাংলাদেশে এসে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরেছে নিউ জিল্যান্ড। আর দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ হার তো এখনও তরতাজা। বাংলাদেশ সফরের পর দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ড সিরিজ দিয়েই আবার মাঠে ফিরছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দু দল খেলবে দুটি টি-টোয়েন্টি ও ৩টি ওয়ানডে।
সিরিজের আগে অবধারিত ভাবেই ঘুরে ফিরে আসছে বাংলাদেশের নাম। তবে বাংলাদেশ থেকে হেরে ফিরেছে বলেই দক্ষিণ আফ্রিকা পিছিয়ে থাকবে, মানতে নারাজ এলিয়ট।
“বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার যা ফল…আমি জানি, ওখানে গিয়ে ক্রিকেট খেলাটা কতটা কঠিন। আমার মনে হয় না, ওই ফলাফলের ভিত্তিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মূল্যায়ন করা উচিত। কারণ বাংলাদেশের কন্ডিশন সত্যিই কঠিন।”
বাংলাদেশে এসে হোয়াইটওয়াশ হওয়া নিউ জিল্যান্ডের দুটি দলেই ছিলেন এলিয়ট। দলের মত কঠিন সময় কেটেছিল তারও। ২০১০ সালে প্রথম তিন ম্যাচে যথাক্রমে রান করেছিলেন ০, ২ ও ২২, শেষ ম্যাচে ১০৫ বলে ৫৯। ২০১৩ সালে ৭১ রান করে শুরু করেছিলেন সিরিজ, পরের দুই ম্যাচে ১৪ ও ৩! সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা ভালোই মনে আছে এলিয়টের।
“নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশ দারুণ লড়াকু। আমি বাংলাদেশে গিয়েছি। অনেক লড়াই করেও একটি ম্যাচ জেতা হয়নি। টার্নিং ও মন্থর উইকেট মিলিয়ে সত্যিকার অর্থেই ভিন্ন কন্ডিশন, মানিয়ে নিতেই অনেকটা সময় লেগেছে।”
নিউ জিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেললেও এলিয়ট আদতে দক্ষিণ আফ্রিকান। জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং ক্রিকেট খেলা, সবই জোহানেসবার্গে। ১৯৯৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়েই। দেশের কোটা প্রথায় বিরক্ত হয়ে ২০০১ সালে পাড়ি জমান নিউ জিল্যান্ডে। কিউইদের হয়েই ২০০৮ সালে পূরণ হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন। গত ৭ বছরে দলে আসা-যাওয়া করেছেন বেশ কবার। সবশেষ গত জানুয়ারিতে দলে ফেরার পর থেকেই আছেন দুর্দান্ত ফর্মে। গত বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ৭৩ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসে তিনিই শেষ করেছিলেন জন্মভূমির ফাইনাল খেলার স্বপ্ন।
এবারও তিনিই হতে পারেন জন্মভূমির সিরিজ জয়ের পথে অন্যতম বাধা। শুক্রবার ডারবানে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু দুটি টি-টোয়েন্টি ও তিন ওয়ানডের সিরিজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন