রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি ফুটবলারদের 'লজ্জাজনক' আচরণ

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপের এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলে আসে বাংলাদেশ। ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হার মানতে হয় বাংলাদেশ দলকে। তবে অজিদের বিপক্ষে বড় হার নয় কথা উঠেছে মাঠের বাইরের বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের আচরণ নিয়ে।
ফুটবলারদের আচরণে পুরো বাংলাদেশিদের ‘আচরণজ্ঞান’ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্পষ্ট করে বলা যায়, টিম হোটেলে ফুটবলারদের কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় সেখানকার অন্য অতিথিদেরই বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
দেশের একটি শীর্ষ স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টালের কাছে এমনটাই অভিযোগ করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী এক বাংলাদেশি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাংলাদেশি পার্থে থাকেন। সফরে বাংলাদেশ দল যে হোটেলে উঠেছিল, সেখানেই কাজ করেন তিনি। অফিস সেকশনে কাজ করার সুবাদে তিনি দেখেছেন স্বদেশের ফুটবলারদের আচরণ, কাণ্ডজ্ঞান। আর শুনেছেন এ কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে ভিনদেশি অতিথিদের প্রশ্ন ও ক্ষোভের কথা।
ওই বাংলাদেশি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশি ফুটবলারদের ‍আচরণে একসময় ক্ষুব্ধ হয়ে তার হোটেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকরাও কথা শোনাতে থাকেন তাকে। তারা জানতে চান, ফুটবলাররা যে আচরণ করছে, অন্য অতিথিদের যে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলছে, পুরো বাংলাদেশের মানুষই এমন আচরণ করে কিনা, অন্যদের এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে কিনা।
ওই প্রবাসী বলেন, হোটেলের ভিনদেশি নারী অতিথিদের দিকে অশোভনীয় দৃষ্টিতে তাকানো, ছোট লবিতে অনেক জোরে-শোরে হাসি-তামাশা করে কথা বলে অন্যদের বিরক্ত করা, হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে অন্যদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানো, অননুমোদিত স্থানে ধূমপান করা, অভ্যর্থনা কক্ষে কিউ না মেনে অন্যদের আগে যাওয়া এবং চার/পাঁচজন একসঙ্গে কথা বলতে থাকা, দুপুর ২টার সময় রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাস্তা চাওয়া, খাবারের সময় নির্দিষ্ট করে জানানো সত্ত্বেও নিজেদের ইচ্ছেমতো রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার চাওয়া এবং চাহিদা অনুযায়ী খাবার নতুন করে রান্না করতে বাধ্য করার মতো কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ আমাকেই প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফুটবলারদের এ ধরনের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ আমাদের বাংলাদেশিদের কী হিসেবে উপস্থাপন করছে বিশ্বদরবারে? সে জবাব আমি আমার হোটেলের জিএমকেও দিতে পারিনি।
ওই প্রবাসী বলেন, তারা ভালো খেলতে না পারলেও দেশকে ডোবাতে যা করেছেন, তাতে একটি প্রশ্ন মাথায় না এসে পারছে না। এতো টাকা খরচ করে আমরা যদি একজন খেলা শেখানোর কোচ রাখতে পারি, তবে কেন আচরণ শেখানোর জন্য এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করা শেখানোর একজন কোচ রাখতে অর্থ খরচ করতে পারবো না?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন